ইরানের রাজধানী তেহরান কেন্দ্রস্থলে শনিবার সকালে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, রাজধানীর রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এই হামলার সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ ছিল বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও আগেই জানিয়েছিল, ইরানে ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ শুরু হয়েছে।
হামলার খবর প্রকাশ হওয়ার পর ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জরুরি বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন, দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তেহরানে স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। তবে হামলার ব্যাপ্তি বা এ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিশ্চিত করতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরান ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের যৌথ হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক মানদণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার পরিস্থিতির দিকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তেহরান ও আশেপাশের এলাকায় সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।
এসময় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রগুলো দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান ও ইসরাইলি সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনী হামলার পরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে। তবে এখনও পর্যন্ত ইরানে বা ইসরাইলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।