হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। আকস্মিক এ সামরিক অভিযানের জেরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দেশটির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানায়। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কা থাকায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তবে ইসরায়েলের হামলার পর এখন পর্যন্ত দেশটির দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং যেকোনো সময় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উত্তেজনা যাতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নেয়, সে জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এখনও পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে তেহরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা
আকাশজমিন / আরআর