রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এবং আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনার ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ব্যবহারকারীরা সাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে ত্রুটি বার্তা পাচ্ছেন। এতে দেশটির সরকারি তথ্যপ্রবাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ইরানে বহুল ব্যবহৃত কিছু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনেও বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। তবে এই সাইবার হামলার প্রকৃতি, উৎস কিংবা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিবিসি মনিটরিং জানিয়েছে, ইরানের বাইরে থেকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি, পার্স নিউজ এজেন্সি এবং আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি ও ইসনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বহির্বিশ্বের গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের কাজেও প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত করা এখন একটি কৌশলগত অংশ হয়ে উঠেছে। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সেই বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সাইবার আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সরকারি তথ্যপ্রবাহ বিঘ্নিত হলে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। ফলে নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন উত্তপ্ত, তেমনি ডিজিটাল অবকাঠামোও চাপে রয়েছে। সাইবার হামলার এই ধারাবাহিকতা কতটা বিস্তৃত হবে এবং তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার অঙ্গনেও যে লড়াই চলছে, ইরানের ঘটনাপ্রবাহ তারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরা ও বিবিসি
আকাশজমিন / আরআর