ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। ইরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামের এই যৌথ অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। শনিবার ভোরে তেহরানের আকাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ধোঁয়া দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান তাদের ছায়াশক্তিদের মাধ্যমে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য যে হুমকি তৈরি করেছিল, তা নির্মূল করতেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ দাবি করেছে, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাদের লক্ষ্য করা হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী অভিযানটি বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিষয়েও নাটকীয় কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানে এই হামলার প্রতিবাদে এবং তেহরানের সমর্থনে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা আবারও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং ইসরায়েলের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের ওপর আক্রমণের জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হুথি বিদ্রোহীরা আরও জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তির ফলে তারা এতদিন লোহিত সাগরে হামলা বন্ধ রেখেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সেই বিরতি ভেঙে আজ রাত থেকেই আবারও সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। সেখানে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন দেখার বিষয়, হুথিদের ঘোষণার পর বাস্তবে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং তা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।