আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরাকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) আল জাজিরা প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরাক সরকারের মুখপাত্র বাসেম আল-আওয়াদি ইরাকের সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা সম্মানিত ইরানি জনগণ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। শহীদ আলেম ও মুজাহিদ, সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ আলি আল-হুসাইনি আল-খামেনিকে আমরা নবী পরিবারের অগ্রগণ্য সদস্যদের একজন হিসেবে বিবেচনা করি।”
তিনি আরও জানান, খামেনির হত্যাকাণ্ড “একটি প্রকাশ্য আগ্রাসন ও নিন্দনীয় কাজের ফল, যা সব মানবিক ও নৈতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় মারা গেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং ফার্স নিউজ এজেন্সি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সরকার খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এছাড়া ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকও ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অফিস এই শোক পালন করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন ধাক্কা দিতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও উত্তেজিত হতে পারে, যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোসহ গোটা অঞ্চলে পড়তে পারে।
ইরাকে তিন দিনের শোকের ঘোষণা মূলত খামেনির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর প্রতি সমবেদনা প্রকাশের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। শোক পালনকালে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হবে এবং জাতির প্রতি একাধিক সরকারি বার্তা প্রকাশ করা হবে।
খামেনির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি সমীকরণকে পাল্টে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে এবং এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।