কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন—আমিনুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান ও দুলাল মিয়া। হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। তিনি জানান, ড্রোন হামলার ফলে বিমানবন্দর এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে অবস্থানরত চার বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় এলাকায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে সকল প্রবাসী নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকতে হবে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার অনুরোধ করা হয়েছে।
দূতাবাস আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সবাইকে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাটি সেই উত্তেজনারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে আহত চার বাংলাদেশির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নয়ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।