ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত বেনিনের বিপক্ষে শেষবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামছেন মেসি হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ড্রোন ধ্বংস দেশে প্রথমবারের মতো আসছে ইলেকট্রিক ট্রেন

খামেনি হত্যাকাণ্ড মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: পেজেশকিয়ান


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৪৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে এভাবে হত্যা করা বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা।” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিশোধের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তিনি বলেন, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অধিকার ও কর্তব্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে তেহরানে খামেনিকে হত্যা করে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের এক গোপন বৈঠক চলাকালে এ হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের দিকে হামলার কথা থাকলেও, বৈঠকের সময় পরিবর্তনের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন সূত্রের দাবি, খামেনি আত্মগোপনে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাকেই প্রথম লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইরানি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগে খামেনি প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি–এর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। বৈঠকটি ছিল দেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। হামলার সময় সেখানে আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের দাবি, এ হামলায় ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর–এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত রূপ দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাসুদ পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সামরিক ভারসাম্য—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর