ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বর্বর হামলার পর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। রবিবার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনা ও স্বার্থে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধ অন্য পক্ষের জন্য কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে কোনো বিজয় নেই। তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং আগামী দিনগুলোতেও পারবে না। যতদিন তারা এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, ততদিন তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না।’ তার দাবি, সামরিক চাপ ও হামলা দিয়ে ইরানকে নত করা সম্ভব নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি তাকে গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখনও তারা ভেবেছিল দুই-তিন দিনের মধ্যে ইরান আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু ১২ দিন পর তারা বুঝতে পারে ইরান আত্মসমর্পণ করছে না এবং শেষ পর্যন্ত তাদের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আবেদন জানাতে হয়। তিনি আরও বলেন, এইবারও আগেরবারের সঙ্গে কোনো পার্থক্য দেখছি না। যতদিন প্রয়োজন আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব এবং তারা ফলাফল দেখতে পাবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের নেতাকে বিদেশি শক্তির হত্যা করা একেবারেই নজিরবিহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু ইরানের রাজনৈতিক নেতা নন, বরং ইরানের বাইরেও অঞ্চলের কোটি কোটি মুসলমানের একজন উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা।
আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, তিনি ইতোমধ্যে অঞ্চলের তার সমমর্যাদার মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা জানি তাদের অবস্থান কী। তারা সন্তুষ্ট নয়, কেউ কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি চাই তারা বুঝুক, অঞ্চলে যা ঘটছে তা আমাদের দোষ নয়, এটি আমাদের পছন্দও নয়।’
তিনি আরও বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। যদি তারা ক্ষুব্ধ হয়, তবে তাদের ক্ষোভ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। আব্বাস আরাগচি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত নয় ইরানের ওপর যুদ্ধ থামানোর চাপ দেওয়া; বরং অন্য পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হামলা চালাচ্ছে এবং আমাদের আত্মরক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারি না, তাই আমাদের অঞ্চলে তাদের ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর মোকাবিলা করতে হচ্ছে।