আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি Saudi Aramco-এর অধীন রাস তানুরা নামের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে শোধনাগারটিতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হামলার পরপরই রাস তানুরা শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে পুরো এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডের কারণে উৎপাদন কার্যক্রমে কতটা প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দূর থেকে রাস তানুরা শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে। কিছু ভিডিওতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর কয়েকটিতে দাবি করা হয়েছে, রাস তানুরা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে সরকারি ঘোষণার জন্য।
রাস তানুরা সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এমন একটি স্থাপনায় হামলার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। হামলার উৎস, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : রয়টার্স, এএফপি