ড্রোন হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানি হিসেবে সৌদি আরামকোর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে।
খবরে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কার্যত বাণিজ্যিক চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়নি, তবে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ মালিকরা নিজেদের উদ্যোগেই চলাচল সীমিত রেখেছেন।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে দেশটির জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।
সংঘাতের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি, তবু এ ঘটনার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আর্থিক বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেল সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। অন্যথায় চলমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী হবে।