প্রতিবেদনে বলা হয়, Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক ও আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের অবস্থান গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইরান এ পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের দশ দফা হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলাকে পূর্বঘোষিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অধিকৃত অঞ্চলের বেইত শেমেশে নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তার সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওটি কয়েক মিনিটের, যা কয়েক ঘণ্টা আগে সম্প্রচারিত হয়। এরপর থেকে তার নতুন কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই হামলার দাবি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একাধিক দফার দাবি দুই পক্ষ থেকেই উঠে এসেছে। এতে করে শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত হামলার ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা বা অবকাঠামোগত ধ্বংসের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার দাবি আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।