সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে ভুলবশত কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী গুলি চালালে সেগুলো ভূপাতিত হয়। তবে তিনটি বিমানে থাকা ছয়জন বৈমানিক নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তারা বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের ফল। চলমান সামরিক অভিযানের সময় ভুল শনাক্তকরণের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেন্টকম জানায়, কুয়েত এ ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান অভিযানে কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোমবার (২ মার্চ) ভোরে জানান, দেশটির আকাশসীমায় ‘একাধিক’ মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে তখন সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পরবর্তীতে সেন্টকমের বিবৃতিতে তিনটি বিমানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে খামেনিসহ ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর প্রাণ হারান।
হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বেড়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথ হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। তাদের পাল্টা আঘাতে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায়ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বেইত শেমেশে ইরানের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। পাল্টাপাল্টি হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং ভুল শনাক্তকরণের মতো ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা চলমান সংঘাতের অনিশ্চয়তা ও জটিলতার দিকটি স্পষ্ট করে। সামরিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।