ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি প্রশাসন, তবে যুদ্ধ কখন এবং কিভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরান। তিনি আরও বলেন, ইরান তার ‘ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স কাঠামো’-র মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সময় ও পরিণতি নির্ধারণে ইরানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরাগচি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক ও আফগানিস্তান আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত দুই দশকে ইরানের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতাগুলো তেহরান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে।
তেহরানে বোমা হামলা ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধের সময় এবং পরিণতি নির্ধারণের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতে রয়েছে।’
ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দফার আলোচনায় উভয় পক্ষ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি স্বীকার করলেও সামরিক উত্তেজনার কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আংশিকভাবে পিছিয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪’ শুরু করে। অভিযানে ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তু এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক রব গাইস্ট পিনফোল্ড বলেন, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। ইসরায়েলের তুলনায় এই দেশগুলোতে আঘাত সহজে এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া, এসব দেশে সরাসরি যুদ্ধের আগ্রহ কম।
পিনফোল্ড বলেন, ইরানের ধারণা অনুযায়ী উপসাগরীয় দেশগুলো দ্রুত যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। প্রকাশ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো ঐক্য ও শক্ত অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে। তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় একসঙ্গে থাকার সংকেত দিচ্ছে, তবে পর্দার আড়ালে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র সামরিক প্রতিক্রিয়ার পক্ষে চাপ দিতে পারে। তবে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মতো হিসেবে গণ্য হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখা।
ইরানের এই যুদ্ধ পরিচালনা ও কৌশল বিশ্বের কূটনৈতিক এবং সামরিক মহলে নজর কেড়েছে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুদ্ধের পরিণতি এবং সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে তাদের হাতে রয়েছে।