পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক তাত্ক্ষণিক সামরিক উত্তেজনার প্রভাব হিসেবে এই জলপথে চলাচল প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মেরিন ট্রাফিক ডটকমের (MarineTraffic.com) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলের ধরণ ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক জাহাজকে মাঝপথে ইউ-টার্ন নিতে, গতি কমিয়ে দিতে বা কোনো স্থানে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু জাহাজ শেষ মুহূর্তে তাদের মূল যাত্রাপথ পরিবর্তন করে বিকল্প রুটে চলে গেছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ট্রানজিট ও বাণিজ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণে তেল এবং অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়। চলাচল কমার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ এবং ভাড়া বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
উল্লেখযোগ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানির পথ। প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই জলপথে পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক হামলার কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জাহাজগুলোর মালিক ও অপারেটররা অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মেরিন ট্রাফিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল হ্রাস শুধু গত কয়েক দিনে লক্ষ্য করা গেছে না; বরং আগামী কয়েক সপ্তাহেও জাহাজ চলাচল প্রভাবিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নিরাপত্তা ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রণালিতে চলাচলের এই হ্রাস উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রতিফলন। তারা সতর্ক করেছেন, অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা, জাহাজ দুর্ঘটনা বা পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থা ও বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে বিকল্প রুট এবং সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তেল ও অন্যান্য পণ্যের সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য।