ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ফলে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর নিজের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। প্রতিশোধ হিসেবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির অংশ হিসেবে, কাতারেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এর ফলে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি কাতারএনার্জি দুটি স্থাপনায় সামরিক হামলার শিকার হয়েছে। হামলার কারণে কোম্পানি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি-তে গ্যাস উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
কাতারএনার্জির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলায় মেসাইদ এলাকায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে ড্রোন আঘাত করেছে এবং রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ অবস্থায় এলএনজি (LNG) উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান নিরূপণ করা হবে এবং পরে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক এবং কাতারএনার্জি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ কারণে এলএনজি দাম বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
প্রসঙ্গত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলা আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ইরানও জবাব দিতে ছাড়েনি। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করেছেন, খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেছেন, ইরান তার সমস্ত সামরিক ও কৌশলগত শক্তি প্রয়োগ করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কাতারের মতো মিত্র দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সতর্ক করেছেন, চলমান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি ও তেল বাজারে সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে।
এ সময় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলা ও স্থাপনার ক্ষতি প্রতিফলিত হতে পারে আন্তর্জাতিক পরিবেশ এবং বাণিজ্যে। কাতারএনার্জি ও অন্যান্য গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ থাকায় এলএনজি সরবরাহ চেইনে সমস্যা সৃষ্টি হবে।