ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রীও মারা গেছেন। এটি সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। হামলার প্রেক্ষিতে ইরানের পরিবারে তীব্র ধাক্কা লেগেছে।
এর আগে শনিবার, ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ অভিযানে খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার মেয়ে, নাতি এবং জামাইও নিহত হয়েছেন বলে ইরানি সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এই ঘটনায় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, "ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ খামেনি মারা গেছেন।" এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
ইরানের বাইরে, এই হত্যার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। রাশিয়া ও চীন এই হত্যার ঘটনা নিন্দা জানিয়েছে এবং হামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সঙ্কটপূর্ণ হতে পারে।
ইরানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খামেনির হত্যার জবাব হিসেবে দেশটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, যে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্য দেশ প্রস্তুত রয়েছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনি ও তার পরিবারের হত্যার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া, হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইরান তার প্রতিশোধমূলক অভিযান চালাচ্ছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রাথমিক ক্ষতি তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানি জনগণ গভীর শোকপ্রকাশ করেছে। সরকার ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ঢাকা টুডে / আরজে