ওমানের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুকুম বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আবারও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক ওমানি নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরব সাগর উপকূলবর্তী এই কৌশলগত বন্দর এলাকায় হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে অন্তত একটি ড্রোন বন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আঘাত হানে। হামলার ফলে সীমিত পরিসরে ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
Oman News Agency-এর বরাতে জানানো হয়েছে, হামলার পরপরই জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
ওমান সরকার এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ওমান সালতানাত এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।” একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে, কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত অথবা হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে— এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Duqm Port আরব সাগরের তীরে অবস্থিত ওমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র। বন্দরটিতে বড় আকারের জ্বালানি সংরক্ষণ সুবিধা, লজিস্টিকস হাব ও শিল্প অবকাঠামো রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনে দুকুম বন্দর কৌশলগত ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওমান সরকার এ অঞ্চলকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি ট্রানজিটের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা শুধু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আরব সাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে তা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

