ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

তেহরানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে বিমান হামলার দাবি ইসরায়েলের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:২৭ পিএম

তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরানি সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের কমপাউন্ডে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবনের ওপর বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার সময় ও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

Israel Defense Forces-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানি শাসকগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা। বিবৃতিতে ব্যবহৃত ভাষায় ইরানি নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা স্থাপনার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কেও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তেহরান ইরানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার দাবি কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলার দাবি সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সরাসরি হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতির উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্বাধীনভাবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলার দাবি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা ভারসাম্যের প্রশ্নে এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইরানের প্রতিক্রিয়া কী হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়— সেটিই এখন দেখার বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর