যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে এবার আঘাত হেনেছে ভূমিকম্প। মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের গেরাশ অঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হয়। চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ঘটনা দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম Al Jazeera মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের পারস্য উপসাগরঘেঁষা গেরাশ অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটি মাঝারি মাত্রার হলেও স্থানীয়ভাবে কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
United States Geological Survey (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। তুলনামূলকভাবে অগভীর গভীরতায় হওয়ায় এর কম্পন বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
গেরাশ অঞ্চলটি ইরানের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় এটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত শনিবার থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় শক্তিশালী বোমা হামলার কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইরানও। এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ভূমিকম্পের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধাবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। অবকাঠামো আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে ভূমিকম্পের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। যদিও এবারের কম্পন মাঝারি মাত্রার, তবু নিরাপত্তা ও মানবিক দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে। পরবর্তী আফটারশকের আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানে এই ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ— দুই চাপের মুখে দেশটির পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।