ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে Iranian Red Crescent Society। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এই তথ্য নিশ্চিত করে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো ধারাবাহিক হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
রেড ক্রিসেন্ট জানায়, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও আশ্রয়সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বিমান হামলাগুলো দেশের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হলেও আশপাশের আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের অভিঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বার্তায় রেড ক্রিসেন্ট গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, চলমান সংঘাত বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে আরও প্রাণহানি এড়ানো যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Associated Press (এপি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে একাধিক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সংঘাত শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। আকাশপথে হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনায় বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে সতর্ক করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতিও দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ অনেক এলাকা এখনও পুরোপুরি তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই-বাছাই চলছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে এ সংকটে সাড়া দেয়, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।