ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চটলেন ট্রাম্প


ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চটলেন ট্রাম্প

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৪৬ পিএম

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিতভাবে সমর্থন না করায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, সংকটকালীন সময়ে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা আশা করা হয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি।

সামাজিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প বলেন, “তিনি সহায়ক ছিলেন না… আমি কখনো ভাবিনি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে এমনটা দেখব।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের সম্পর্ক অতীতের তুলনায় এখন অনেকটাই ভিন্ন। একসময় যে জোটকে তিনি সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে করতেন, সেটিও এখন চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান বা কৌশলগত পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্রিটেনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ বদলে গেছে এবং মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরাসরি অংশ নেবে না। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে বা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল।

স্টারমার উল্লেখ করেন, ইরান যেন অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে না পারে— সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সীমিত সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলায় অংশ নিচ্ছে না এবং সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়িত নয়।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Al Jazeera জানিয়েছে, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্টারমার আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার বিষয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও ইউরোপীয় মিত্ররা সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক চ্যানেল ও সামরিক প্রস্তুতি— দুই দিকেই তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য এবং স্টারমারের অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যে নতুন প্রশ্ন তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কতটা সমন্বিত থাকে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য মতবিরোধ জোটের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর