আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্র আইআরআইবি লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলার পর ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে একে ‘ইরানি প্রপাগান্ডা মেশিনের হৃৎপিণ্ডে আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ফারসি ভাষার অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডলে এক পোস্টে জানায়, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানে আইআরআইবি কমপ্লেক্সে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে। সামরিক বাহিনীর দাবি, এই হামলা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতেই তা পরিচালনা করা হয়েছে।
আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রটি ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ‘মিথ্যা ও নিপীড়নের যন্ত্রের হৃৎপিণ্ড’। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি তত্ত্বাবধানে কয়েক ডজন শক্তিশালী গোলাবারুদ ব্যবহার করে এই ‘কমিউনিকেশন সেন্টার’ বা যোগাযোগ কেন্দ্রটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার ফলে কেন্দ্রটির কার্যক্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রের প্রধান পেম্যান জেবেলি জানিয়েছেন, তেহরানে তাদের সদর দফতরের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণের বেশ কিছু অংশে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, এই হামলা ইরানের তথ্যপ্রবাহ ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কার্যক্রমকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বোমায় ইরান সরকারের প্রধান যোগাযোগ পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে। এর আগে গতকালও তেহরানের বেশ কিছু সরকারি ভবনে হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও এই সংবাদমাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইসরায়েল। সে সময়ও সম্প্রচার কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। সাম্প্রতিক হামলাকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো মানে শুধু একটি ভবন ধ্বংস করা নয়, বরং প্রতিপক্ষের তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবকে দুর্বল করার চেষ্টা। বিশেষ করে চলমান সংঘাতের সময়ে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে তেহরানে হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।