আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাতারের বিমানবাহিনী ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণের জেরে সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানবাহিনী দুটি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে ইরান থেকে ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাঁচটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনী দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সব হুমকি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হুমকি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত অপারেশনাল পরিকল্পনা অনুসারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কাতার সরকার ইরানের এই হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের লক্ষ্যবস্তুতে ইরান একের পর এক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। কাতার দাবি করেছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের ভূখণ্ডে কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছিল। যদিও সে সময় বড় ধরনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সর্বশেষ ঘটনায় দোহা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। পাল্টা জবাবে ইরান আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের আকাশসীমায় সরাসরি সংঘর্ষের এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় ব্যবহার এবং যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।