আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১১ জন সামরিক সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিটিজ নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত মোট বেসামরিক নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।
এইচআরএএনএ জানায়, সোমবারের হামলায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বান্দার আব্বাসে অবস্থিত শহীদ বাহোনার পিয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিস্ফোরণে কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিহতের সংখ্যা ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছিল। তবে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রাণহানি আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে এইচআরএএনএ। আলজাজিরা জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, চলমান হামলায় শিশু ও নারীসহ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করা হলেও ইরানের বিভিন্ন সূত্র বলছে, হামলার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ছে। সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন শহরে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। ইরান পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানালেও এখনো সংঘাত প্রশমনের সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। চলমান হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।