ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দ্বিগুণ হয়েছে তেল পরিবহণ ভাড়া, শঙ্কায় বিশ্ব বাণিজ্য


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা হামলার শিকার হতে পারে। এমন ঘোষণার পরপরই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে, পাশাপাশি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে তেল পরিবহণ ব্যয়।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাংকার ভাড়া এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ জানিয়েছে, এই ভাড়া চার লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই রুটে ভাড়া ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য হামলার হুমকি দেওয়ার সময়কার তুলনায় বর্তমান ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ।

দুই মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বহন করতে সক্ষম বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজগুলো—যেগুলো ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার) নামে পরিচিত—এখন বাড়তি ঝুঁকির কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম পরিশোধ করছে। বীমা খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। জাহাজমালিক ও চার্টার কোম্পানিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলতে চাইছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য এটি প্রধান রপ্তানি পথ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্রণালী ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রপ্তানি করে থাকে। এই রুট বন্ধ থাকায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা মানে শুধু তেলের দাম বাড়া নয়; এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপরও। কারণ তেল পরিবহণ ব্যয় বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা—সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি এখনও ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ নয়, তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এমন বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় দেশগুলো উপসাগরীয় তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে তাদের শিল্প উৎপাদন ও পরিবহণ খাতে ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোও বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজতে বাধ্য হতে পারে।

বীমা খাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যুদ্ধঝুঁকি প্রিমিয়াম দ্রুত বেড়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক শিপিং কোম্পানি এখন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিছু জাহাজ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে বিকল্প রুট ব্যবহার করার কথা ভাবছে, যা সময় ও খরচ উভয়ই বাড়াবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন মানে উৎপাদন ও রপ্তানি কমে যাওয়া। এতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে। ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে। কূটনৈতিক সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রতিফলিত হচ্ছে। তেল পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণ হওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর