আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা এরবিলের একটি নির্দিষ্ট হোটেল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল। হামলার সময় ও ব্যবহৃত ড্রোনের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এরবিল দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে মার্কিন সেনারা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ফলে এই হামলা শুধু নিরাপত্তা ইস্যুই নয়, বরং কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এদিকে একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী দুবাইয়ে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে একটি ‘জটিল হামলা’ পরিচালনা করেছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে সমন্বিত কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে দুবাইয়ে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
ইরাকে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী অতীতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামটি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ছাতার সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে বলে বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন। যদিও প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
দুবাইয়ে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেখানে সরাসরি হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। অন্যথায় একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হামলা পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।