আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকেও টার্গেট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চলমান পাল্টা অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এবং তারা এখন ‘স্বাধীনভাবে’ হামলা পরিচালনা করছে।
আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলায় সরকারের সরাসরি কোনো নির্দেশনা নেই। ওমানে সাম্প্রতিক হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, বিপ্লবী গার্ড এখন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ পরিচালনা করছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রুহুল্লা খোমেনি বিপ্লবী গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় ইরানের সংবিধানেও পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সাধারণ সেনাবাহিনীকে দেশ ও সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়, আর বিপ্লবী গার্ডকে দেওয়া হয় ইসলামিক বিপ্লব ও তার আদর্শ রক্ষার দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাহিনী সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিপ্লবী গার্ড তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি সুপ্রিম লিডারের কাছে অবহিত করে থাকে। যেহেতু সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপ্লবী গার্ড নিজেদের সিদ্ধান্তে অভিযান পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরাগচির বক্তব্য থেকে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যায় যে, সুপ্রিম লিডার নিহত হওয়ার আগে যে সাধারণ নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন, বিপ্লবী গার্ড এখন তা অনুসরণ করছে।
ওমানের বন্দরে হামলার ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়। জবাবে তিনি বলেন, “ওমানে যা হয়েছে তা আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ইতিমধ্যে বলেছি তারা কিসে হামলা চালাচ্ছে সে ব্যাপারে যেন সতর্ক থাকে।” তিনি আরও বলেন, “আসল ব্যাপার হলো, আমাদের সামরিক ইউনিটগুলো এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা আগে থেকে দিয়ে রাখা সাধারণ নির্দেশনার ভিত্তিতেই কাজ করছে।”
আরাগচির এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এটি একদিকে বিপ্লবী গার্ডের স্বাধীন সামরিক ভূমিকাকে সামনে আনছে, অন্যদিকে সরকার সরাসরি দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে—এমন ধারণাও তৈরি করছে।
তবে বার্তাসংস্থা এএফপি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা চালানোর ‘অজুহাত’ হিসেবেও আরাগচি এ ধরনের মন্তব্য করে থাকতে পারেন। কারণ একদিকে বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চলছে, অন্যদিকে কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইরানে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। বিপ্লবী গার্ডের ভূমিকা ও সরকারের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।
সূত্র: এএফপি