ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ইরানের ১৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৮০টির অধিক ড্রোন আটকেছে কুয়েত


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:৫৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে কুয়েতের সেনাবাহিনী ইরান থেকে আসা ১৭৮টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৮০টিরও বেশি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকানো সম্ভব হয়নি। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সফলভাবে আঘাত হানে এবং কুয়েতের সেনাবাহিনীর ২৭ জন আহত হয়েছেন। আহত সেনারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—ক্যাম্প আরিফজান, আলী আল সালেম এয়ারবেইস এবং ক্যাম্প বুহেরিং। এ সময় দেশটিতে তিনটি এফ-১৬ মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত গোলা ছোড়ে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছে। এই উড়োজাহাজগুলোর ছয়জন ক্রুই নিরাপদে বের হয়ে এসেছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম চলাকালীন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। লক্ষ্যবস্তুতে কোনো ক্ষতি না ঘটানোর জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে রকেট ও ড্রোনের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনায় কুয়েতের সেনা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো এ ধরনের আক্রমণের মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কুয়েতের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কুয়েতকে তার আকাশসীমা ও সামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

এদিকে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের ফলে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হলেও আংশিক ক্ষতি এড়ানো যায়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আক্রমণের পর কুয়েতের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও পরিকল্পনা ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের মধ্যে সামরিক সমন্বয় এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাগুলো অঞ্চলীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর