ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

দেশে জ্বালানি তেলের মজুত আছে ১৪ দিনের: বিপিসি


দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি মজুদ আছে: বিপিসি

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৬:৫৩ পিএম

দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় বিকল্প বাজার থেকে তেল আমদানির বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। সরবরাহ চেইন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে, তাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গতকাল পর্যন্ত সাতটি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে। আমদানির প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন জ্বালানির মজুদের মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন। ডিজেলের মজুদ ১৪ দিনের, অকটেন ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েলের মজুদ ৫৫ দিনের সমান। এই মজুদ কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয় বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা এর প্রধান কাজ। বিপিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুদের হিসাব অনুযায়ী—

ডিজেল: মোট মজুদ ২ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ১ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ১৪ দিন।
অকটেন: মোট মজুদ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ২৮ দিন।
পেট্রোল: মোট মজুদ ২১ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ১৯ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ১৫ দিন।
ফার্নেস অয়েল: মোট মজুদ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ৯৩ দিন।
জেট এ–১: মোট মজুদ ৬০ হাজার মেট্রিক টন, ব্যবহারযোগ্য মজুদ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন, মজুদকাল ৩০ দিন।

বিপিসি বলছে, এসব মজুদ পরিমাণ দেশের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নিয়মিত আমদানি ও মজুদ ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সরবরাহ নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিপিসি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে মজুদ বৃদ্ধি ও আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকারের একটি বিষয় বলে তারা উল্লেখ করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর