ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খবর অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লাগে। এর ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানানো হয়েছে।
Al Jazeera জানিয়েছে, এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরানে চালানো হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির পর তেহরান পাল্টা আঘাত শুরু করে। সেই পাল্টা হামলার প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতার ফলে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনায় আঘাত লাগায় হতাহতের ঘটনা এড়ানো যায়নি।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনার অবস্থান থাকায় এমন হামলার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য রুট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে এ হামলা নিয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও দেশটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা দুটোই আবার আলোচনায় এসেছে।
এদিকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করছে এবং তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।