ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এ ঘটনার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও জনপদে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জবাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মনুষ্যবিহীন আকাশযান, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলার দাবি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
হিজবুল্লাহ পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনের কেন্দ্রে অবস্থিত ওই সদরদপ্তরে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। তারা আরও দাবি করে, ভোরের কিছু আগে উত্তর ইসরায়েলের একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে চলমান সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
সূত্র জানিয়েছে, এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।