বুধবার শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ পার্লামেন্টে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে আহত নাবিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। আহতদের শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। বাকি নাবিকদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ডুবে গেছে।
তবে কী কারণে ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডুবে গেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি বিজিথা হেরাথ। তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শ্রীলঙ্কা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইআরআইএস দেনার অন্যান্য নাবিকদের সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু বাকি নাবিকদের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নই।”
উদ্ধার অভিযানে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ও একটি আকাশযান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিথা হেরাথ। জরুরি বিপদ সংকেত পাওয়ার পরপরই নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার মিশন শুরু করে।
রয়টার্স শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি জাহাজটি থেকে পাঠানো জরুরি সংকেতের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণপশ্চিম উপকূলীয় শহর গালের অদূরে জাহাজটি থেকে বিপদ সংকেত পাঠানো হয়। উদ্ধার হওয়া আহত নাবিকদের গালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নৌবাহিনী আহত ইরানিদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সেখানে পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলীয় এক আইনপ্রণেতা পার্লামেন্টে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে ফ্রিগেটটিতে কোনো আঘাত হেনেছিল কি না। তবে এ বিষয়ে সরকার পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
শ্রীলঙ্কার নৌ ও বিমান বাহিনী জানিয়েছে, আরেক রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জড়িত থাকায় উদ্ধার অভিযানের দৃশ্যচিত্র প্রকাশ করা হবে না।
ঘটনার কারণ এখনো অজানা থাকলেও সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।