সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 126
তাড়াশ পৌর শহরের শ্রমিক অফিস সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ের উত্তর পাশে অবস্থিত ওয়াপদা বাঁধ আঞ্চলিক সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে থাকে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি সংস্কারে বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। অস্থায়ীভাবে এক থেকে দুই ট্রাক খোয়া ও বালু ফেললেই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, পৌরসভা আমাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকে কোনো সেবা না পেলেও বিভিন্ন ধরনের কর নিয়মিত দিতে হয়। অথচ সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
শুধু ব্যবসায়ী নয়, সাধারণ মানুষও চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রোগী বহনকারী যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। জরুরি সময়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে জনজীবনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পৌর শহরের উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময় উন্নয়ন কাজের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। এতে পৌরবাসীর আস্থা কমে যাচ্ছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়রা আরও জানান, সামান্য উদ্যোগ নিলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বড় প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করলে দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তাড়াশ পৌর শহরের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগ লাঘবে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।