আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের নাগরিকদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইনী মোহসেনী এজেই বলেছেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষে বক্তব্য দেন কিংবা তাদের স্বার্থে কোনো কার্যকলাপে জড়িত হন, তবে তাকে ইরানের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা ঘোষণা করেছি যে, যারা কোনোভাবে শত্রুর সহযোগিতা করবে, তাদেরও শত্রু হিসেবেই গণ্য করা হবে। অস্থিরতার সময় যেমন বলা হয়েছিল, দাঙ্গা-সংক্রান্ত মামলাগুলো অগ্রাধিকার পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু বলে বা করে, তারা শত্রুপক্ষের লোক। যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী ও ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখতেই এমন কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরান সরকার আশঙ্কা করছে, বাইরের চাপের পাশাপাশি ভেতরেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয়ই ইরানের জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটি সম্ভবত ইরানিদের জন্য প্রজন্মের মধ্যে তাদের নেতা পরিবর্তনের একমাত্র সুযোগ।
চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরও সীমিত হতে পারে। সরকারের কঠোর অবস্থান বিরোধী মতের ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের বিচার বিভাগের এই সতর্কবার্তা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো ধরনের ‘শত্রু সহযোগিতা’ কঠোরভাবে দমন করা হবে।
বর্তমানে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর নজর রাখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা