আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননভিত্তিক সংবাদ সংস্থা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নায়ম কাসেম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দু’প্রতিশ্রুতি দিলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তারা কোনো শর্তে আত্মসমর্পণ করবে না। আন্তর্জাতিক সংস্থা লেবানন ত্যাগের পর বুধবার (৮ মার্চ) প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন।
নায়ম কাসেম দাবি করেছেন, ২০০৬ সালের শেষের দিকে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিটি ধারা হিজবুল্লাহ নিয়মিতভাবে পালন করেছে, কিন্তু ইসরায়েল সেই চুক্তির কোনো শর্তই পূরণ করেনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি কুটনৈতিক সমাধানের পথে সমর্থ হয়েছি এবং বিষয়টিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হিসেবে দেখেছি। কিন্তু বারবার বলা হয়েছে যে আমাদের ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে।”
কাসেম জানান, হিজবুল্লাহর বর্তমান পরিস্থিতি হলো যে কোনো মূল্য এবং চরম ত্যাগের বিনিময়ে সীমার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর মোকাবিলা করা। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছে, কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার থেকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট ও ড্রোন হামলা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
পাল্টা ব্যবস্থায় দক্ষিণ লেবানন র্যাপিড বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল সেনা মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ভয়াবহ হামলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করেছে এবং প্রাণ বাঁচাতে ইটোমধ্যে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। উদ্বৃত্ত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নায়ম কাসেমের ভাষণ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর মনোবল বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।
হিজবুল্লাহর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাসেমের বার্তা ইঙ্গিত দেয় যে, ২০০৬ সালের যুদ্ধবিরতির চুক্তি যদি পুনরায় প্রয়োগ না হয়, তবে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা খুবই প্রবল। উভয় পক্ষের হামলার পরিণতিতে সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা দ্য হিন্দুর মতে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে।