আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষায় সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলেনস্কি জানান, তিনি ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে সেখানে কিয়েভের মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান করা যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার এবং আজ জর্ডান ও বাহরাইনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনার কথা বলেছেন। জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জীবন রক্ষা করা এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা। ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা সেই কাজে সাহায্য করতে পারবে।”
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জেলেনস্কির নির্দেশ অনুযায়ী এমন একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন, যা মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা করবে, কিন্তু ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা দুর্বল করবে না। জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা কেবল অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতাও বাড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থান, তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদের উপস্থিতি বিষয়গুলো জেলেনস্কির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে।
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন শুধু নিজের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই না, যে কোনো দেশ এই সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হোক। আমাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি দিয়ে অন্যদের রক্ষা করা সম্ভব।”
এছাড়া, জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরালো হতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সমন্বিত প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকবে।”
ইউক্রেনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলেনস্কি এবং তার কর্মকর্তারা সবদিক বিবেচনা করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন, যাতে রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
জেলেনস্কির এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অঞ্চলের মানুষদের জীবন নিরাপদ রাখতে ইউক্রেন কার্যকর সমাধান প্রদানের চেষ্টা করছে।
সূত্র: বিবিসি