ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান কেন স্থগিত করেছে ইরান?


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ হিসেবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি উল্লেখ করা হচ্ছে। চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান আপাতত অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে তা দ্রুত পূরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। সর্বোচ্চ নেতার হাতে দেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকে। তাই নতুন নেতাকে নির্ধারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

খামেনির উত্তরসূরি কে হবেন, তা নির্ধারণ করে অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। সংস্থার একজন সদস্য জানিয়েছেন, নতুন নেতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব তাড়াহুড়ো না করে অত্যন্ত সচেতন ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। এজন্য বিদায় অনুষ্ঠান ও নতুন নিয়োগ—উভয়ই ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালানো হয়। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হন।

অক্ষত রয়েছেন মুজতবা খামেনি, যিনি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জোর সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ১০৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

ইরান যৌথ হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। তাদের পাল্টা আঘাতে অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা এবং নতুন নেতার নিয়োগ ধীরগতিতে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত ইরানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সতর্কতার একটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর