ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, শরণার্থী শিবিরসহ দুই স্থানে নিহত ৫


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৪৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরসহ দুইটি স্থানে অন্তত ৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তর লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত দুইজন এবং দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে উত্তর লেবাননের ত্রিপোলির কাছাকাছি অবস্থিত বেদ্দাওয়ি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে। এই এলাকা সাধারণত সংঘাতপ্রবণ দক্ষিণ লেবাননের অঞ্চলগুলো থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ফলে ওই এলাকায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা বিরল বলেই মনে করা হয়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেদ্দাওয়ি শরণার্থী শিবিরে চালানো হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হামলার ধরন বা এতে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের উত্তরাঞ্চলে এমন হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, এতদিন ধরে সংঘাতের প্রধান কেন্দ্র ছিল দক্ষিণ লেবানন। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা দেখা যায়।

অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননেও একই দিনে পৃথক আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, টাইর-নাকৌরা সড়কে কালিলা শহরের কাছে একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত তিনজন নিহত হন।

এই হামলার পর স্থানীয় এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ওই হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল বা কারা এতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

একই দিনে দেশের দুই ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটায় লেবাননে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরে হামলার ঘটনা অনেককেই বিস্মিত করেছে। কারণ, এ ধরনের শিবিরে সাধারণত বেসামরিক মানুষ বসবাস করেন এবং সেখানে হামলা হলে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।

অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় সড়কে ড্রোন হামলার ঘটনাও চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে এবং সংঘাতের বিস্তার ঘটাতে পারে।

তবে এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার পেছনে তাদের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না—তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ পায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শরণার্থী শিবিরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় হামলা হলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর