আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানসংক্রান্ত সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার জন্য আনা ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত পাস হয়নি। সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে পড়েছে ৪৭ ভোট এবং বিপক্ষে ৫৩ ভোট। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানসংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ভোটাভুটিতে মূলত দলীয় অবস্থানই প্রাধান্য পেয়েছে। অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিলেও রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই এর বিপক্ষে অবস্থান নেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রস্তাবটি আটকে যায়।
তবে ভোটাভুটিতে কিছু ব্যতিক্রমী অবস্থানও দেখা গেছে। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারমান রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। এই ক্রস ভোটের ঘটনা সিনেটের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যেও কিছুটা ভিন্নতা তুলে ধরেছে।
প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে আরও সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেত। এতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে। অর্থাৎ কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন না—এমন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্দেশ্যেই প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরান ইস্যুতে সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ইরান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
অন্যদিকে অধিকাংশ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের হাতে পর্যাপ্ত সামরিক ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। তবে কিছু রিপাবলিকান সিনেটর বলেছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় বা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।
সিনেটে প্রস্তাবটি পাস না হলেও ইরানসংক্রান্ত সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসের আলোচনা এখানেই শেষ হচ্ছে না। জানা গেছে, আগামীকাল একই ধরনের আরেকটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইরান ইস্যুকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।