ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

মার্কিন নৌবাহিনীকে বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ভারতের


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:৫১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাবেক উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর সম্প্রতি ডানপন্থী মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ককে (ওএএন) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করে থাকতে পারে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওএএন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের ভিত্তিহীন ও মনগড়া মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।

ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই এমন কোনো কার্যক্রমে জড়িত নয়, যার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করা হয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার খবর সামনে এসেছে। শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজের ওপর মার্কিন সাবমেরিন হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, জাহাজটি ভারতের আয়োজিত একটি সামরিক মহড়া শেষে শ্রীলঙ্কা ত্যাগ করছিল।

ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ও উদ্বেগও বেড়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী ইরান সরকারের মালিকানাধীন ২০টিরও বেশি জাহাজে আঘাত হেনেছে অথবা সেগুলো ডুবিয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে।

তবে এই দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বড় শক্তিগুলোর সামরিক পদক্ষেপ এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



এ সম্পর্কিত আরো খবর