চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় অধ্যাপক শুইচিন জিয়াংকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দুই বছর আগে দেওয়া তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্য আবারও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসবেন, এরপর তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করবেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হতে পারে।
২০২৪ সালে রেকর্ড করা ওই ভিডিওটি সম্প্রতি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক শুইচিন জিয়াং তিনটি সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরবেন। দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণীতে তিনি বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এই দুই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবতার সঙ্গে মিলেছে বলে দাবি করছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। ফলে এখন তাঁর তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ভবিষ্যদ্বাণীতে তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।
শুইচিন জিয়াংয়ের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘প্রেডিকটিভ হিস্ট্রি’। সেখানে তিনি ইতিহাস, ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করেন। বর্তমানে তাঁর চ্যানেলের অনুসারী সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার জন্যই তিনি অনলাইনে বেশ পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২০২৪ সালের মে মাসে ধারণ করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে তিনি বলেন, যদি ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক চাপ ও কৌশলগত অবস্থান ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক সংঘর্ষ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ ইরানের ভৌগোলিক গঠন, জনসংখ্যা এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে অত্যন্ত জটিল করে তুলতে পারে।
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে শুইচিন জিয়াং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান আক্রমণের সঙ্গে প্রাচীন গ্রিসের সিসিলি অভিযানের তুলনা করেন। ইতিহাসে এথেন্স একসময় সিসিলিতে বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। তবে সেই অভিযান শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছিল এবং এথেন্সের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।
জিয়াংয়ের মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান যেকোনো বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দেশটির বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চল, দীর্ঘ সরবরাহ পথ এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনো বিদেশি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতিকে কঠিন করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে সামরিক সাফল্য পাওয়া গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপে পড়তে হতে পারে।
এই বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী অধ্যাপক শুইচিন জিয়াংকে “চীনের নস্ট্রাডামাস” বলে উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। নস্ট্রাডামাস ছিলেন ১৬ শতকের একজন ফরাসি জ্যোতিষী, যিনি ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য ইতিহাসে পরিচিত।
তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, এসব মন্তব্য মূলত ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস মাত্র। বাস্তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কী হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং সামরিক কৌশলের ওপর।