মৃত গৃহবধূ সুলতা সরদার (২৭) শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের সুবল বৈদ্যের একমাত্র কন্যা। তার বিয়ে হয়েছিল কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মলেঙ্গা গ্রামের মৎস্যচাষী শশাঙ্ক সরদারের সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাইরে থেকে সংসারটি স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে কলহ লেগেই থাকত।
রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিম আল রাজি টোকন পরিবারের বরাতে জানান, ভোররাতে বাড়ির একটি কক্ষে সুলতার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
কালিগঞ্জ থানার এসআই মতিন বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর স্বামী শশাঙ্ক সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সুলতার পিতা সুবল বৈদ্য অভিযোগ করেন, তার মেয়ের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তিনি দাবি করেন, সুলতা স্বামী শশাঙ্কের বিরুদ্ধে অন্যত্র অনৈতিক সম্পর্ক ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলতেন। এসব বিষয় নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল বলে জানান তিনি।
কালিগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সুমিত কুমার জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, হঠাৎ মায়ের মৃত্যুতে দুই শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশী শিখা রাণী বলেন, রাতে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না, কিন্তু সকালে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য কেউ কল্পনাও করেনি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ অনুসন্ধান জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল করিম বলেন, একটি পরিবারে দাম্পত্য কলহ কতটা গভীর হলে তার পরিণতি এমন হতে পারে, তা এখন সবার মনে প্রশ্ন তুলছে। এলাকাবাসীর দৃষ্টি এখন পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে।