ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

শিবগঞ্জে ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ৩৫ ইটভাটা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৫৯ পিএম

উৎপল কুমার মোহন্ত, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ৩৫টি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব ভাটার মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থাপন করা হয়েছে আবাদি জমিতে এবং কিছু ভাটা গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকার পাশেই। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভাটার কারণে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং মারাত্মক বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩৭টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র রয়েছে। বাকি ভাটাগুলো ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। পাশাপাশি ভাটায় ১২০ ফুট উঁচু পাকা চিমনি ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভাটায় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না।

জানা যায়, উপজেলার দাড়িদহের কালুগাড়ী এলাকার এম.এম.বি বিকস, রহবল দো-সীমানায় লাবীব এন্ড সাজিদ ব্রিকস, পাকুরতলার মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স, আর.এম.এ ব্রিকস এবং মোকামতলা এলাকায় এম এম সি ব্রিকস ইটভাটায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভাটার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কালুগাড়ী গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভাটার ধোঁয়ার কারণে কয়েক বছর ধরে গাছে ফল ধরছে না। শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি লেগেই আছে। তিনি দ্রুত এসব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পাকুরতলার এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ভাটার ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জমিতে ফসলের ফলন কমে গেছে এবং শিশুরা প্রায়ই সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকটি ইটভাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন দপ্তর ও প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই ভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তর, বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, যেসব ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই তাদেরকে ইতোমধ্যে ভাটা বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, খুব শিগগিরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষিজমি রক্ষা ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর