আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানকে সতর্ক করেছেন যে, কোনো ভুল হিসাব করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শনিবার (৭ মার্চ) এই বার্তা তিনি দেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনিরের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর। খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা একটি বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া একটি বড় তেলক্ষেত্রও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। প্রিন্স খালিদ বৈঠকের পর এক্স-এ (সোশ্যাল মিডিয়া) পোস্টে বলেন, তারা সৌদিতে ইরানি হামলা এবং তা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জোর দিয়ে বলেছি যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। আমরা আশা করি ইরান বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং কোনো ভুল হিসাব করা থেকে বিরত থাকবে।”
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছে, একই ঘাঁটিতে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া আমিরাত সীমান্তের কাছে শায়বাহ তেল ক্ষেত্রেও একের পর এক ড্রোন হামলা ধ্বংস করা হয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিয়াদের পূর্ব দিকে পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনা এক সপ্তাহ আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জোরদার হওয়া প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে।
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব বলেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুবা তেল শোধনাগারে অন্তত দুটি ড্রোন হামলা হয়েছে। সৌদি বাহিনী তৎক্ষণাৎ তা প্রতিহত করেছে এবং তেলক্ষেত্র ও স্থানীয় অবকাঠামোতে কোনো বড় ক্ষতি হয়নি।
প্রিন্স খালিদ বলেন, বৈঠকে তারা ইরানি হামলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, কোনো দেশ বা বাহিনী সৌদিতে হামলা করলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বিঘ্নিত করবে।
সংক্ষেপে, সৌদি আরব ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, আঞ্চলিক সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিমান ঘাঁটি ও তেল ক্ষেত্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত।