নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাকা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জিরু কাজী ও দুই নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে জিরু কাজী গ্রুপ ও আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে গিয়ে জিরু কাজীর সমর্থকদের মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার জের ধরেই শনিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
সংঘর্ষে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয় জিরু কাজী, লুৎফুন্নাহার, রেখা বেগম, সেলিম বিশ্বাস, হেমায়েত হোসেন, আনোয়ার, আক্তার মোল্যা, লিটন, ফিরোজ, শরিফুল, হাসান মোল্যা, কাদের ও মিরাজ মোল্যাসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জনকে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় বাকা গ্রামের রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদা গ্রামের তবিবর মৃধাকে আক্তার মোল্যার লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।