ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

যুদ্ধ হচ্ছে ইরানে, কিন্তু কঠিন বিপদে পাকিস্তান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৪২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাত পাকিস্তানকে একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও ইতিহাসভিত্তিক সম্পর্ক, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ইসলামাবাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাকিস্তানের লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব সরাসরি পাকিস্তানের ওপর পড়তে পারে। বিশেষত অর্থনীতি, শ্রমিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য এই পরিস্থিতিতে প্রভাবিত হতে পারে।

গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এক দেশের ওপর হামলাকে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান যদি সৌদি আরবে হামলা বাড়ায়, তাহলে পাকিস্তানের অবস্থান কেমন হবে তা নিয়ে দেশটিতে তর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখন পর্যন্ত পাকিস্তান মূলত কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সীমিত রয়েছে। ইসলামাবাদ ইরান ও সৌদি আরব উভয় দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বাড়িয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, পাকিস্তান চেষ্টা করছে যেন সংঘাত পাকিস্তানের ভূখণ্ড বা নিরাপত্তার ওপর প্রভাব না ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো ইরানকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা কঠিন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক নির্ভরতা পাকিস্তানকে সরাসরি কূটনৈতিক বা সামরিক সংঘর্ষে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের ভেতরেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া মুসলিম বাস করে, যা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। তবে পরিস্থিতি তৈরি হলে সৌদি আরবকে আকাশ প্রতিরক্ষা বা সীমিত সামরিক সহায়তা দিতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করবে ইসলামাবাদ।

তাদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা হতে পারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা। পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে এবং সংঘাত রোধে একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।

পাশাপাশি, পাকিস্তান আশা করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোও শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ইসলামাবাদের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা, যাতে দেশটি কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর