আনন্দ টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর জয়নাল আবেদীনের বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজের পিছনে অবস্থিত তার বাসায় একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, হামলার সময় জয়নাল আবেদীন বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। তবে বাসায় তার পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসার জানালায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ঘরের ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শুধু ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা জয়নাল আবেদীনকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এতে করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আকস্মিক এই হামলার ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এটি এই পরিবারের ওপর প্রথম হামলার ঘটনা নয়। এর আগেও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছিল জয়নাল আবেদীনের বাসা। তখনও দুর্বৃত্তরা বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
আকাশজমিন / আরআর