রবিবার (৯ মার্চ) সকালে তারা জয়দেবপুর এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরের দিকে চৌরাস্তা এলাকার কাঁচাবাজার, মাছের আড়ত, মুদি দোকান, মাংস ও মুরগির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। এ সময় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শনকালে বাজারে পণ্যের মূল্য তালিকা টানানো আছে কি না, ওজন পরিমাপের যন্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং পণ্যের মান ঠিক রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। পাশাপাশি বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হয়।
এ সময় সিটি প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
বাজার পরিদর্শনের সময় ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তারা। কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, কিছু পণ্যের দাম নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি নেওয়া হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও দোকানে মূল্য তালিকা টানানো নেই। বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নজরে আনা হয় এবং তাদের সতর্ক করা হয়।
গাজীপুর সিটি প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়াতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন সবসময় সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করে বা মজুতদারি করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ সময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা বিবেচনায় রেখে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা জরুরি। তাই বাজারে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রমজান মাসজুড়ে গাজীপুর নগরীর বিভিন্ন বাজারে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।