“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের মাধবপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের আয়োজনে মাধবপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নারী নেত্রী, শিক্ষক এবং স্থানীয় নারীরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মুজিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে একটি সমাজ বা রাষ্ট্র কখনোই টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, নারীরা আজ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তাদের এই অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় আইনগত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমাজে এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হন। এসব সমস্যা দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পিয়ারা বেগম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল ফয়সল চৌধুরী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস এম জাকিরুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার নুসরাত জাহান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রুখসানা পারভীন এবং মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কায়েস আহমেদ সালমান।
বক্তারা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজের সর্বস্তরে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব হবে। এ জন্য নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নারী নেত্রী, শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর