উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি পুরুষ এবং ১১ জন রোহিঙ্গা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে।
৮ মার্চ রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার নোয়াখালি জুম্মাপাড়া এলাকার একটি পেঁপে বাগান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ড ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে জানা গেছে।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার নোয়াখালি জুম্মাপাড়া এলাকায় কুখ্যাত মানবপাচারকারী মোঃ আব্দুল আলী এলজিইডি রোড সংলগ্ন একটি পেঁপে বাগানে আটকে রেখেছে।
এমন তথ্য পাওয়ার পর ৮ মার্চ রবিবার মধ্যরাতে বাহারছড়া কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওই বাগানে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আটক করে রাখা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩২ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করে আসছে। তারা অল্প খরচে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সংগ্রহ করে এবং পরে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করে।
এই চক্রগুলো সাধারণত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে সুযোগ বুঝে নৌপথে সাগরে পাঠানো হয়। ফলে মানবপাচারের ঝুঁকি এবং সমুদ্রপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।